তপ্ত মেরুতে আলেয়ার মত মরা বরফ
জমতে দেখেছ কখনও?
শুনেছ? ঢেউয়ের কবরে আটকে পড়া
পাখিদের আর্তনাদ!
দেখেছ? এক গোছা এলোমেলো চুল হয়ে
স্মৃতির গোছা থেকে ঝরে যায়, অপরূপ এক নিঃসঙ্গতা!
বিস্মৃত হয় কবির দৃষ্টি।
বোমার আঘাতে ধসে পড়া কংক্রিটের ছাই, কয়েকটি
ফসফরাস মানবদেহকে আলাদা করে বেদনাময় বাঁচা-মরা দিয়ে।
মৃত্যুই কি তখন তোমার একমাত্র বিশ্বস্ত স্বামী?
বোমারু বিমান তোমায় দেখেনি সেদিন।
দেখেছে হয়তো, কিন্তু চেনেনি কবি।
শুধু অনৈতিক উল্লাসে থেঁতলে দিয়ে গেছে,
তোমার বাবা, মা আর ভাইয়ের টাটকা শরীরগুলো।
ওরা তখন হয়তো তোমাতেই মিশে গিয়ে, আরও
ভালো কবিতা হয়ে ওঠার অপেক্ষায় ছিল।
তোমার প্রিয় সেই নীরব বিবর্ণ তারা, যার চোখ ছুঁয়ে
ধোঁয়া ধোঁয়া সর হয়ে, থেকে যেতে চেয়েছিলে।
সেও কি এখন তোমার আরো কাছাকাছি থাকে?
তোমার চুলের গোছা ধরে আধখানা প্রজাপতি,
সমুদ্রের নোনা ছুঁয়েছে। মেঘলা ধ্বংসস্তূপ নিয়েছে
স্বেচ্ছা নির্বাসন! এক অজুহাত পারমিতারা
এক গোছা গোলাপ আর কান্নায় লাল হয়ে যাওয়া
গোলাপি ম্যাট্রেসে ব্যাথার প্রতিশব্দ খুঁজেছে!
“বে শাবগির চুন বার-দামিদ আফতাব
সর-এ জ্যাং-জুয়ান বার-আমাদ্ জে খাব
চু শিরান বে কশতি দার-অবিখ্তান্দ
জে তানহা খোয়-ও খুন হামি ৰিখ্তান্দ”
সব কবিতারা ঘুমিয়ে যায় না, চাপা পরে না, মরেও যায় না
হয়তো কখনো কখনো সবাই গর্জেও ওঠে না।
শুধু পার্নিয়া আব্বাসীর মত থেকে যাওয়ার কথা ভাবে,
ফুল হয়ে, নদী হয়ে, পাখি জন্ম কোজাগর হয়ে।,
মৃত্যু শোক দুঃখকে ফুলস্টপ মেরে দিয়ে।
দূরে নিভন্ত নক্ষত্রলোকে তখন টুকরো টাকরা
শহর-দেশ-ভূমি, একটা আধ খোলা জানালা।
সেই জানালা জুড়ে আজান শেষের বারবেলাটা জুড়ে
বৃষ্টি হয়ে নেমে আসা নেশাটা যুদ্ধের!
অন্ধকারটাও তাই আসক্তির!
ঠিক ততটা তীব্র অন্ধকার, যতটা রোদ নিয়ে,
পার্নিয়া একদিন কবিতা লিখতে চেয়েছিল!
