এই স্টপে এসে ট্রামটা একেবারেই দাঁড়ায় না; হয়তো একটা অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাল চকচকে ট্রামের রেখাটা কুয়াশার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে যাদের এই স্টপে নামবার কথা ছিল, তারা আগে থেকেই তিন নম্বর গেটে নেমে যায়। নেমে দেওয়ালের গা ঘেঁষে তাড়াতাড়ি হাঁটতে থাকে। বাকি লোকজন তাদের দিকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। খুব কম মানুষ চার নম্বর গেটের দিকে যায়। চার নম্বর গেটে ঠিক কী আছে? চার নম্বর গেটে নেমে মানুষ কোথায় যায়?
বুদ্ধিদীপ্ত অথচ লাজুক মুখের ওই বাচ্চাগুলোকে এই প্রশ্নটা করে দেখতে পারেন। ওই যে দেখুন, যে বাচ্চাগুলো এইমাত্র লাফিয়ে নেমে এলো ট্রামের পাদানি থেকে, যাদের হাতে বল, স্কুলব্যাগ, টায়ার আছে, ওদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন। ওদের হাতে কোনও ফুলের তোড়া নেই। ওদের সঙ্গে বাড়ির বড়রা কেউ নেই, বাবা, মা কিংবা ঠাকুমা। সাধারণত এইসব জায়গায় বাচ্চাদের সঙ্গে বাড়ির বড়রা থাকে; কারণ, মৃত্যুর মত কঠিন রহস্যময় সত্যের সামনে বাচ্চাদের একা ছেড়ে দেওয়া হয় না। তাই না? এইরকম একটা জায়গায় বাচ্চাদের উপস্থিতির ব্যাপারটা আপনাকে হতবাক করতে পারে। আপনি কৌতূহলী হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রশ্ন করতে পারেন…
- “তোমরা কোথায় যাচ্ছ?”
- “আমরা খেলতে যাচ্ছি!”
- “খেলতে! কবরখানার মধ্যে? শহরের খেলার পার্কে যাও না কেন তোমরা?”
- “পার্কে খেলতে যাওয়া আমাদের বারণ; এমনকি পার্কে বাইরের দিক দিয়ে হাঁটাহাঁটি করাও বারণ আমাদের!”
- “যদি যাও, তাহলে কী হবে?”
- “কনসেনট্রেশন ক্যাম্প!” শান্ত কণ্ঠস্বরে গম্ভীরভাবে বলে ওঠে একটা বাচ্চা ছেলে, হাতের খেলার বলটা উজ্জ্বল আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেয়। আপনি ভেতরে ভেতরে একটু কেঁপে উঠবেন এবং হঠাৎ বুকের মধ্যে যেখানে হৃদপিণ্ড থাকে, তার চারপাশে একটা চাপ চাপ কষ্ট অনুভব করবেন। আপনার আফসোস হবে যে কেন আপনি বাচ্চাগুলোকে প্রশ্ন করেছিলেন! কিন্তু আপনি জানেন না কেন, ব্যাখ্যার অতীত একটা ভাবনা আপনাকে বাক্যালাপ চালিয়ে নিয়ে যেতে তাড়না করবে…
- “আচ্ছা, ওইখানে কবরখানায়… তোমাদের ভয় করে না মরা মানুষদের মাঝখানে?”
- “ভয় কিসের? মরা মানুষেরা আমাদের কোনওভাবেই আঘাত করে না।”
আপনার মনে আরও কিছু জিজ্ঞাসা ছিল। কিন্তু… সাবধান! রাস্তার ওপাশের কোণ থেকে ধূসর রঙের স্যুট পরা একটা লোক কি আপনার দিকে নজর রাখছে? এই বাচ্চাগুলোর সঙ্গে বেশি কথা বলা আপনার জন্য কোনও বিপত্তি ডেকে নিয়ে আসবে না তো? সাবধান থাকাই বোধহয় ভাল। সেইজন্য আপনি তাড়াতাড়ি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পিঠ ফিরিয়ে চলে আসবেন। কিন্তু আপনার বুকের মধ্যে যে চাপা কষ্ট হচ্ছিল, একটা খারাপ লাগা, একটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল আপনার মনে, সেটা চলে যাবে তো?
ইহুদিদের কবরখানায় জুঁইফুল ফুটে আছে। উজ্জ্বল সাদা, স্নিগ্ধ ফুলগুলি ঝকঝকে রোদ্দুরের মাঝে পুঞ্জ পুঞ্জ সুবাসের মেঘ ছড়িয়ে দিচ্ছে। পরম নিবেদনে পূর্ণ মহিমায় নির্ভীকভাবে ফুটে উঠছে ফুলগুলি; কোনও মালিন্য নেই ফুলের গুচ্ছে। তাদের মধ্যে ঘৃণা, সংরক্ষণের ভাবনা, খুঁতখুঁতে ছুঁৎমার্গ এসব কিচ্ছু নেই, মানবসভ্যতার বিষাদগ্রস্ত পরিণতির সম্ভাবনার লেশমাত্র নেই। লতাগুল্ম, গাছপালাগুলোর জন্য এখানে কেউ কোনও যত্ন করে না। সমাধিক্ষেত্রের পাথর ছুঁয়ে, জড়িয়ে আপনা থেকেই এরা বেড়ে উঠতে থাকে; নুয়ে পড়ে শাখাগুলি, কেঁপে কেঁপে ওঠে মধ্যদিনের বাতাসে। অবর্ণনীয় শোকের ভার, ছিঁড়েখুঁড়ে দেওয়া কষ্ট এবং প্রান্তিক, সংখ্যালঘু, একঘরে হয়ে যাওয়া মানুষের দুঃখগুলো হাওয়ায় মিশে যাবার আগে সবুজ গাছপালাগুলিকে সাক্ষী থাকবার জন্য ডাক দিয়ে যায়। গাছপালাগুলো বেড়ে চলে, বাড়তে বাড়তে জঙ্গল হয়ে যায়; ঠিক সেভাবে অদম্যগতিতে বেড়ে চলে সাংহাই, শিকাগো কিম্বা সিডনি শহরে ছিন্নমূল উদ্বাস্তু মানুষজনের নিজের ফেলে আসা জন্মভূমির জন্য হাহাকার, দ্বীপান্তরে যাওয়া মানুষজনের শেষ আশা, খুন হয়ে যাওয়া মানুষের শেষ দীর্ঘশ্বাস। যন্ত্রণার বিশাল ডুবোপাহাড়গুলোকে দ্রুত বেড়ে ওঠা গাছপালার সবুজ আবৃত করে রাখে অসীম সহমর্মিতা দিয়ে। মৃত মানুষেরা শান্তিতে শুয়ে থাকে বিশাল বিশাল প্রস্তরখণ্ড অথবা গুঁড়িয়ে, ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের সমাধির নিচে। কদাচিৎ নুড়ি বিছানো রাস্তার উপরে পায়ের শব্দ শোনা যায়, শোনা যায় ঘাস কাটবার শব্দ অথবা শোকার্ত মানুষের অনুচ্চ ক্রন্দন।
ওই দূরে, যেখানে ফাঁকা মাঠটা শুরু হচ্ছে, সেখানে সাম্প্রতিক বছরে মৃত মানুষেরা শায়িত আছে। সমাধিতে লেখা তাদের জন্ম- মৃত্যুর তারিখগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে এরা কেউই সেভাবে পরিণত একটা জীবনকাল পায়নি। ভগ্নহৃদয়ে অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে দুনিয়া থেকে এত মানুষের চলে যাবার হিসেবটা বুখেনভাল্ডের১ ভস্মাধারের কিংবদন্তীর থেকে কম ওজনদার নয়। একজন শ্রমিক হেঁটে চলে গেল। তার অনাবৃত কাঁধের উপরে হলদে তারার প্রতীকচিহ্ন আঁটা নীল রঙের ইউনিফর্ম ফেলে রাখা, দু’ হাতে বেলচা, আর মুখে উদাসীন, সপ্রতিভ হাসি। এই মানুষটির সঙ্গে যদি আপনি কথা বলতে পারতেন, হয়তো সে বলে উঠত… “দুঃখিত, এই হলদে তারা২ আমি সর্বক্ষণের জন্য আমার শরীরের ত্বকে লাগিয়ে রাখতে পারি না!” আসলে অল্প সময়ের জন্য হলেও এই তারকাচিহ্ন খুলে রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে।
কালো মার্বল দিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠান ভবনের ধ্বংসস্তুপের উপরে রহস্যময়ভাবে সূর্যের কিরণ খেলা করে। সত্যিই কি মৃত মানুষেরা এখানে একদম একা? … একটা বন্ধুত্বপূর্ণ হালকা বাতাস কেঁপে কেঁপে চলে যায় মাটির উপর দিয়ে, ঝোপেঝাড়ে ছোট ছোট পোকামাকড়ের দল উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায়, অনেক দূরে কোথাও ট্রেনের ইঞ্জিন অনেকটা সময় ধরে হুইসল দেয় বিষণ্ণ সুরে! সাদা প্রজাপতির ঝাঁক দেখা দেয় মাঠের ঘাসগুলির উপরে; কোথায় যেন একটা বাচ্চা আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে, তারপর চুপ করে যায়। সত্যিই কি মৃত মানুষেরা এখানে একেবারে একা, পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে?
আকাঙ্ক্ষার, অপেক্ষার নদীর স্রোত কি এই ঢেউখেলানো সবুজের তৃণপ্রান্তর জুড়ে তাদের দিকে বয়ে আসছে না? পৃথিবীর প্রতি কোণ থেকে অদৃশ্য ভালবাসার জ্বলন্ত শিখার তরঙ্গ, যা ঘৃণা কিম্বা অস্পৃশ্যতা, ছুঁৎমার্গ… এসবের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী, বাতাস কি সেই লহরী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে না জন্মভূমির শেষ দ্বীপের মাটির টুকরো ছুঁয়ে থাকবার জন্য? এটাই কি ঠিক সেই হারিয়ে যাওয়া শেষ সমাধিক্ষেত্র নয়, যেখান থেকে শোণিতের ধারা বয়ে বয়ে রূপান্তরিত হয়ে এক উজ্জ্বল প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে প্রকৃতির শিরা ও ধমনীতে, মিশে যাচ্ছে এই পৃথিবীর হৃদস্পন্দনের সঙ্গে? যেখানে সব আত্মার বিনাশ ঘটে গিয়েছে, একেবারে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা শৃঙ্খলিত নগর কোন বার্তা দিতে চায় পৃথিবীকে?
হ্যাঁ, পৃথিবী নিজেই এই মধ্যদিনের চিরকালীন অলৌকিক মহিমার মাঝে মিশিয়ে দেয় প্রীতির বার্তা, সবুজ প্রান্তরের উপর দিয়ে বয়ে চলা সর্বব্যাপী বাতাসে মিশে যায় সমাজে একঘরে হয়ে যাওয়া, বিতাড়িত শিশুদের খেলা খেলা আহ্লাদের কিছু শব্দ, ফুটন্ত যূথিকাগুচ্ছের সুবাসের সঙ্গে মিশে যায় গ্রীষ্মারম্ভের ব্যাকুলতা। শতসহস্র ছিন্নভিন্ন, দুঃখদীর্ণ হৃদয় ধারণ করে রাখতে চায় পৃথিবী তার মাতৃসুলভ হাতের বরাভয়ের মাঝে; এইভাবেই কি এই পৃথিবী জাগিয়ে তুলতে চায় এক অলীক আশাবাদ?
আপনি হয়তো বলবেন… “আমি এত কিছু দেখতে পাচ্ছি না!”
ওহ, তাই যদি হয়, তাহলে আপনি নিজেও সর্বস্ব নিয়ে লুকিয়ে থাকুন নির্মম, হালকা ধূসর পাথরের আড়ালে।
- “তোমরা কি এই পৃথিবীটাকে দেখতে পাচ্ছ?” যদি আপনি ওদের এরকম কোনও প্রশ্ন করেন, বাচ্চাগুলো তারপর একটু অপ্রস্তুতভাবে হাসবে, একটু বিস্মিত হবে, মুখ চাওয়াচাওয়ি করে তারপর একটা অদ্ভুত প্রত্যয়ের সঙ্গে সবগুলো বাচ্চা হাসিমুখে সমস্বরে জবাব দেবে… “হ্যাঁ!”
এবার আপনার বিস্মিত হবার পালা। আপনি বলবেন… “কিন্তু আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?” ভাল কথা, আপনাকে বুঝতে হবে যে এই পৃথিবী, এই প্রকৃতি এক আদর্শ নারী… প্রকৃত স্বরূপ সে তাকেই দেখাবে, যে তাকে ভালবাসবে।
তিন বছর পর এপ্রিল মাসের বন্য রাতে এলোমেলো বাতাস বয়ে যাওয়া, ভয়ে কাঁপতে থাকা, অপেক্ষারত একটা নগরীর আকাশে প্রথম ফেটে পড়া গোলার চোখধাঁধানো আলো একটা বাঁকা ধনুকের মত পথ তৈরি করে; তারপর আবার সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে যায়।
- “ওইখানেই যুদ্ধের ফ্রন্ট!”
- “কোথায়? কোন রাস্তায়? কোন চত্বরে?” উঁচু সমতল ছাদের উপরে জমায়েত হওয়া লোকজনের ছোট দলটা একদম চুপ করে যায় তারপর। সবাই বুঝবার চেষ্টা করছে যে ঠিক কোন দিক থেকে গোলাবর্ষণ হচ্ছে।
অবশেষে একজন নীরবতা ভঙ্গ করে… “আমার মনে হয়… জায়গাটা চার নম্বর গেটের কাছাকাছি হতে পারে।”
চার নম্বর গেট! সেখানে, যে জায়গাটা বহুদিন ধরে সবার কাছে অদৃশ্য হয়ে আছে, হয়ে আছে সান্ত্বনার প্রলেপ দেবার ঠাঁই, যেখানে যূথিকাগুচ্ছের অপেক্ষা জেগে আছে এবং অনেক শিশু যেখানে শান্তিপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখে, যে স্টপে ট্রামগুলো সারাদিনে একবারের জন্য থামে না, ট্রামযাত্রীদের অতি সাধারণ দাবি মেনে একমুহূর্ত দাঁড়াবার প্রয়োজন বোধ করে না, সেই বিন্দু থেকেই স্বাধীনতার উৎসমুখ তৈরি হয়।
পাদটিকা-
১. বুখেনভাল্ড (Buchenwald)- ১৯৩৭ সালে ভাইমারের কাছে স্থাপিত হয়েছিল জার্মানির সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বড় কন্সেনট্রেশন ক্যাম্প। কথিত আছে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মানুষকে বলি দেওয়া হয়েছিল এই ক্যাম্পে। সর্বক্ষণ হত্যালীলা জারি থাকত এখানে। ভস্মাবশেষ ঢেলে দেওয়া হত কাছাকাছি পাহাড়ের প্রাকৃতিক গর্তে। এত মানুষ খুন হয়েছিল যে কোনও হিসেব ছিল না। কোনও পরিচয়পঞ্জী অবধি ঠিকভাবে জানা যায়নি।
২. হলদে তারা- নাৎসি আমলে ইউরোপে সব ইহুদিদের পথেঘাটে বেরোলে পোশাকের মধ্যে ছয়কোণা হলদে রঙের তারার প্রতীকচিহ্ন লাগিয়ে রাখার আদেশ জারি করা ছিল। ছয়কোণা তারা ইহুদিধর্মে অতি পবিত্র চিহ্ন। কিন্তু এই চিহ্নটিই বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পোশাকে সর্বক্ষণ লাগিয়ে রাখবার আদেশ ছিল, যাতে সমাজের অন্যান্য মানুষের মধ্যে ইহুদিদের আলাদা ভাবে চেনা যায়।

[এই গদ্যটি (Das vierte Tor (দাস ফিয়ের্তে টোর) এর অনুবাদ। এই লেখাটি ফিচার হিসেবে ভিনার কুরিয়ার (Wiener Kurier) পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর। এই লেখাটির মধ্য দিয়েই পাঠকমহলে ইলসে আইশিংগারের প্রসিদ্ধি ঘটে।]
লেখক পরিচিতি- (Ilse Aichinger) ইলসে আইশিংগারের জন্ম হয়েছিল ১৯২১ সালের ১লা নভেম্বর ভিয়েনাতে। জন্মসুত্রে তিনি ছিলেন আধা-ইহুদি। ১৯৩৮ সাল নাগাদ নাৎসি দমনপীড়নে পড়াশুনো বন্ধ করে ক্রীতদাসীর মত বোতামের কারখানায় কাজ করতে হত তাকে। যুদ্ধ শেষ হবার পরে ১৯৪৫ সালে আবার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন নিয়ে পড়াশুনো শুরু করেন। লেখালেখির শুরু এই সময় থেকেই। ১৯৫১ সালে ‘গ্রুপে ৪৭’ নামে এক সাহিত্যিকদের সমিতিতে তিনি আমন্ত্রণ পান। এই সমিতি যুদ্ধ পরবর্তী অস্ট্রিয়াতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিষয়ে কাজ করছিল। সেখানেই ইলসের সঙ্গে আলাপ হয় জার্মান কবি গুন্থার আইশ এর এবং ১৯৫৩ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইলসের ছোটগল্প জার্মান পাঠকদের মনে এক পাকা আসন করে নেয়। বক্তব্যের তীব্রতার জন্য ইলসেকে ‘কাফকার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ’ বলে বর্ণনা করা হত। যদিও অনেক সমালোচকের মতে ইলসের কাজ মানুষের দুঃখকষ্ট তুলে ধরবার ক্ষেত্রে বহুবার এমনকি কাফকাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। পঁচাত্তর বছর বয়সে ইলসে বার্লিনের লিটারারি কলোকুইয়ামের উচ্চপদে আসীন ছিলেন। ২০১৬ সালের ১১ই নভেম্বর ভিয়েনাতে তার দেহাবসান ঘটে।
