অযুত ডুবোজাহাজ থেকে অসংখ্য মিসাইল
তোমার দিকেই তাক করে রয়েছে, হে রবীন্দ্রনাথ
শান্তি পারাবার নয় মিসাইলে বোম্বিং - এ আর্ত রক্তাক্ত প্রাণীময় পারাবার
তোমার দিকেই আর্ত বাহু তুলে আজ পরিত্রাণ চাই
হে গীতাঞ্জলি রচয়িতা - শুধু বেঁচে উঠবার জন্য
যেখানে আছেন আপনি, সেখানের রমা রঁলা কিছু তো বলছেন আপনাকে
হঠাৎ মহাঘুম থেকে জেগে উঠেছেন আপনি আর্তনাদ শুনে।
পৃথিবী ধ্বংসের দিকে - আর্ত প্রাণীকুল কী যে বলে উঠতে চায় আপনাকেই
একমাত্র বাঁচবার সবুজ ডাঙা আর নিষ্কলুষ মাস্তুল ভেবে
অন্য কোনো নতুন সাগরসম ভেবে।
মাইকেল এঞ্জেলেও এসেছেন আপনাকে দেখতে -
ভারতীয় অশেষ অরণ্যাণী আপনি।
বিশাল বিশাল বিষের ড্রাগনের নিঃশ্বাসে সমুদ্র শুকিয়ে যাবার বিরুদ্ধে
উনামুনোও ডাকছেন বার বার হে মহাকবি, হে ত্রাতা
পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সমস্ত ফ্যাসিজম মুছে দিতে
সাগর অরণ্য মৃত্তিকা ঝিনুক শামুক প্রজাপতি -
শেষ প্রাণটুকু গীতবিতানের গানে গানে
আবার সজীব সজাগ সপ্রেম অঢেল করে নিতে,
আর প্রতিটি আয়স্ত গর্ভের ভ্রুণ।
প্রতিটি কাঠ বিড়ালির শিল্প
প্রতিটি নির্মল সিন্ধুঘোড়ার লাফ দিয়ে ওঠা
নতুন সাগরতল থেকে -
সম্ভব শুধু আপনাকেই আরো একবার
ব্যাপ্ত কল্পনাময় দেখে।
শুদ্ধ স্রোতঃস্বল এ জীবন হবে ভেবে
সেজানও কতদূর অন্তরীক্ষদেশ এসে কানে কানে বলছেন আপনাকে
ব্রেখটকেও ডাকছেন আপনি নতুন ক্যানভাসে
ভিক্টোরিয়া এসেছেন আপনার হাত ধরে
যুদ্ধবিধ্বস্ত পারস্য সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর তীরে।
যুদ্ধবিরতির জন্য শেষবার রাষ্ট্র নেতাদের বোঝাবার জন্য
আপনিই বলুন কিছু - একমাত্র আপনিই বোঝাতে পারেন
চেতনাহীন মৃত্যু ও হিংসা-ক্ষতময়
মানুষকে আরেকবার প্রাণ-সাগরের রঙে ভরিয়ে তো
আপনি পারেন দিতে হে রবীন্দ্রনাথ।
গীতাঞ্জলি, গীতবিতান বুকে নিয়ে চলে যাব দেশ দেশান্তরে
সে ছবি একবার এ -সামান্য মর-চোখে দেখব বলে।
আর কিছু চাইব না কোনোদিন আপনার কাছে,
এই চাওয়াই মুক্তি আমাদের
এই চাওয়াই শিল্প আমাদের
এই চাওয়াই আমাদের ভোরের আকাশ-
- হে কালের চিরউদয়পথিক।
পৃথিবীকে শেষ বার বাঁচান
ডাকুন একবার রিলকে ও চেখভকে
আরেকবার ক্ষতদীর্ণ যুদ্ধ সমাধিময় এ ধরাকে ভালোবেসে
আরও ভালোবেসে অশ্রু দিয়ে, গান দিয়ে, রঙে
ভরে দিন আদিগন্ত চেতনার রঙে
যুদ্ধের প্রবল বিরোধে
সময়ের এই সত্যকে বাঁচার কবিতা করে
নবজন্ম করুন- আর্ত রক্তাক্ত প্রান্তরে
এই প্রার্থনা ওঠে আপনার দিকেই - হে মহাবেদন,
হে অশেষ কবি।
